লন্ডন, ২৫ জুন ২০২৬: পূর্ব লন্ডনে গত ১৫ জুন সংঘটিত বিশৃঙ্খলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আইনের শাসন এবং কমিউনিটির ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি কয়েক দশকের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে একটি সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছে। একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে সেই অর্জন ও সুনাম ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত চার দশকে বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জনসেবা, রাজনীতি, সংস্কৃতি, গবেষণা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তিতেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
১৫ জুনের ঘটনাকে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা কমিউনিটিতে বিভাজন সৃষ্টির কোনো স্থান নেই। এসব কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্ব পূর্ব লন্ডনের রাস্তায় নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত থাকতেই পারে, তবে তা কখনোই ব্রিটিশ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার কারণ হতে পারে না। পূর্ব লন্ডন কোনো দেশের রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্র নয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সহিংসতা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা কমিউনিটির মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ কিংবা প্রকৃত পরিচয়ের প্রতিফলন নন।
বিবৃতিতে সবাইকে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে মতপ্রকাশের আহ্বান জানিয়ে সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং যুক্তরাজ্যের সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “আমরা শান্তির পক্ষে, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধার পক্ষে, আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে এবং আমরা ঐক্যের পক্ষে। বহু বছরের ত্যাগ ও সংগ্রামে অর্জিত আমাদের কমিউনিটির সুনাম একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কারণে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। একসঙ্গে কাজ করেই আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সম্মানিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।”





