লন্ডন, ২৯ জুন: নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ ক্যারিয়ার কূটনীতিক মুহাম্মদ আবদুল মুহিতকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করেছে।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কৃতী সন্তান মুহাম্মদ আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের ১১তম বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি কূটনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া এবং আইসল্যান্ডে বাংলাদেশের সমবর্তী (Concurrent) রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেন।
তার দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে ওয়াশিংটন ডিসি, রোম, দোহা, কুয়েত ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় ক্ষেত্রেই তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০২৪ সালে তিনি UNDP, UNFPA ও UNOPS-এর যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতিসংঘের Peacebuilding Commission-এর চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় একটি ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মুহাম্মদ আবদুল মুহিত বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম রুবি পারভীন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের অভিমত, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে মুহাম্মদ আবদুল মুহিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






