Home ইউকে টাওয়ার হ্যামলেট এর মেয়রের ক্যাম্পেইনের সফলতাঃ লন্ডনের প্রতিটি বরোর জন্য পৃথক...

টাওয়ার হ্যামলেট এর মেয়রের ক্যাম্পেইনের সফলতাঃ লন্ডনের প্রতিটি বরোর জন্য পৃথক সাশ্রয়ী আবাসন লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা

25
0

লন্ডন: রাজধানী লন্ডনের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বরো (Borough)-এর জন্য পৃথক সাশ্রয়ী আবাসন (Affordable Housing) নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সিটি হল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পে কত শতাংশ সাশ্রয়ী বাসস্থান রাখতে হবে, তা প্রতিটি বরোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জমির মূল্য এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওয়ান্ডসওয়ার্থ, ল্যামবেথ, সাউথওয়ার্ক, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যাম এবং কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসির মতো এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্পে অন্তত ৩৫ শতাংশ সাশ্রয়ী আবাসন অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য থাকবে। অন্যদিকে, কিছু বরোতে স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে ভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ের মতে, রাজধানীতে বাড়ির মূল্য ও ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন নীতির মাধ্যমে উন্নয়নকারীদের আরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের দাবি, উচ্চ সাশ্রয়ী আবাসন লক্ষ্যমাত্রা অনেক প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে আবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, লন্ডনের আবাসন সংকটের তুলনায় এই পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও প্রকৃত চাহিদা পূরণে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশাম কাউন্সিল লন্ডনের মেয়রের সাশ্রয়ী আবাসনের বাধ্যতামূলক কোটা ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়। মামলাটি দায়েরের পরপরই সিটি হল নতুন এই ছাড় বা নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়, যা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলগুলো তাদের আইনি উদ্যোগের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও এটি যথেষ্ট নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লন্ডনে প্রতি ২১ জন শিশুর মধ্যে একজন গৃহহীন। অর্থাৎ, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অন্তত একজন গৃহহীন শিশু রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পরিবর্তে যদি ডেভেলপারদের মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে আবাসন সংকট আরও গভীর হবে।

পড়ুনঃ  উত্তর-পূর্ব লন্ডনে 'আইস' ড্রাগ লাইন চালনাকারী তিন জনের ২০ বছরের কারাদণ্ড

এই আইনি লড়াইয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশামের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে ল্যামবেথ, সাউথওয়ার্ক, হ্যারিঙ্গে এবং ওয়ালথাম ফরেস্ট কাউন্সিল। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলগুলোর দাবি, লন্ডনের ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী আবাসনের হার কমানো নয়, বরং তা সংরক্ষণ ও বাড়ানোর দিকেই নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

নতুন নীতিমালা এখন পরামর্শ ও পর্যালোচনার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি নতুন লন্ডন প্ল্যান-এর অংশ হিসেবে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here