লন্ডন: টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু ও তরুণদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের জীবন ও স্থানীয় কমিউনিটিকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে নতুন ‘চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ পার্টিসিপেশন গাইড’ চালু করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
নতুন এই গাইডে শিশু, তরুণ ও তাদের পরিবার কীভাবে স্থানীয় পরিষেবা, প্রকল্প এবং কমিউনিটি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার জন্যও এতে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা রাখা হয়েছে, যাতে তরুণদের অংশগ্রহণ হয় কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ফলপ্রসূ।
বারার বিভিন্ন এলাকার শিশু ও তরুণদের মতামত এবং স্থানীয় ইয়ুথ ফোরাম ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন গ্রুপের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাইডটি তৈরি করা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে গাইডটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে সামার ক্যাম্প আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ১৫০ জনেরও বেশি তরুণ উপস্থিত ছিল।
কাউন্সিল জানিয়েছে, নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিষেবা, প্রকল্প, স্থানীয় এলাকা, ভবন ও পাবলিক স্পেস সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশু ও তরুণদের মতামত প্রকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা। এর মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের ধারণা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত কীভাবে প্রভাব ফেলছে এবং তাদের অংশগ্রহণের ফলে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেটিও দেখতে পারবে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি শিশু ও তরুণের বিকশিত হওয়ার, নিজের সম্ভাবনা পূরণ করার এবং নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত।”
তিনি বলেন, নতুন গাইডটি শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে পরিষেবা তৈরি, ফলাফল উন্নত এবং তরুণদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
চিলড্রেন, ইয়াং পিপল অ্যান্ড লাইফ চান্সেসের ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই গাইডের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার এবং সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আরও সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে গ্রীষ্মজুড়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন ইয়ুথ সেন্টারের তরুণরা বিএমএক্স, ক্যানোয়িং ও ক্লাইম্বিংসহ নানা ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এসব কার্যক্রম ছিল ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটসের বৃহত্তর সামার প্রোগ্রামের অংশ।
তরুণদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কাউন্সিলের অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স (ইএমএ), বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গ্র্যান্ট, ইউনিভার্সাল ফ্রি স্কুল মিল এবং স্কুল ইউনিফর্ম গ্র্যান্ট।
কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইএমএ ও উচ্চশিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি পুনরায় চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৮ জন শিক্ষার্থীকে মোট ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ২০০ পাউন্ড অনুদান দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহনে সহায়তা করছে।
কাউন্সিল বলছে, নতুন পার্টিসিপেশন গাইডের মাধ্যমে তরুণদের শুধু পরিষেবার সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় নীতি ও পরিষেবা গঠনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।






