Home কমিউনিটি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ শাকির আহমেদের দাবি: শৈশবের বন্ধুর প্রতারণার প্রতিবাদ করায় ষড়যন্ত্রমূলক...

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ শাকির আহমেদের দাবি: শৈশবের বন্ধুর প্রতারণার প্রতিবাদ করায় ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়েছে

13
0

লন্ডন, ২ জুন ২০২৬:

লন্ডনের ডেগেনহাম মসজিদের ইমাম হাফিজ শাকির আহমেদ অভিযোগ করেছেন, শৈশবের এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশে একটি ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলার শিকার হয়েছেন। এর ফলে তাকে ২৬ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং তার পরিবারও ব্যাপক মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে।

মঙ্গলবার লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

হাফিজ শাকির আহমেদের দাবি, গত ২০ মার্চ ২০২৬ তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশে যান। ২৩ মার্চ সিলেটের একটি হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে গেলে তার শৈশবের বন্ধু শাহাদাতের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে শাহাদাত পূর্বের বিভিন্ন ঘটনার জন্য ক্ষমা চান এবং ধার করা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শাকির আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করার পর বহু বছর ধরে তিনি শাহাদাত ও তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেছেন। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন ও ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সময়ে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ধার দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, এসবের কিছু দাবি মিথ্যা ছিল এবং টাকা ফেরত পাওয়ার পরিবর্তে তিনি হুমকি পেতে শুরু করেন।

তার অভিযোগ, ২০২৫ সালে শাহাদাত ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকা ধার নেন, যার অর্ধেক তিনি এবং বাকি অর্ধেক তার এক আত্মীয় দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আরও অর্থ ধার চাওয়া হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি শুরু হয়।

শাকির আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল বাংলাদেশে অবস্থানকালে একজন ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। একই দিনে পুলিশ তাকে একটি অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। সেখানে তিনি জানতে পারেন, শাহাদাতের বোন ফাতিমা নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির অভিযোগ করেছেন।

পড়ুনঃ  আপাসেনের উদ্যোগে কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট ও শহীদ মেমোরিয়াল গার্ডেন-এর বিশেষ পরিচিতিমূলক সভা

তিনি দাবি করেন, পুলিশ তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। তবুও পরবর্তী সময়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় ও কারাগারে থাকাকালে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাহাদাত তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৫ লাখ এবং পরে ৯ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাকির আহমেদের দাবি, ১৯ এপ্রিল কারাগারে সাক্ষাতের সময় শাহাদাত তাকে বলেন, টাকা দিলে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে এবং গণমাধ্যমে স্বীকার করা হবে যে অভিযোগটি মিথ্যা ছিল। তবে তিনি কোনো অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি।”

হাফিজ শাকির আহমেদ আরও দাবি করেন, ২৬ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। কিন্তু মুক্তির পরও তার পরিবারকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমি চাই সত্য উদঘাটিত হোক। কোনো প্রবাসী যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানির শিকার না হন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here